হ্যাপী করিম, মহেশখালী (কক্সবাজার):
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে গভীর রাতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং বাধা দেওয়ায় স্বামী-স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ইউনিয়নের আঁধারঘোনা পশ্চিমপাড়া এলাকায় জহির আহমদের ছেলে কামরুল হাসানের বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তি স্থানীয় আব্দুস সালামের ছেলে আয়াত বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে বসতঘরে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, ঘরে ঢুকে সে পরিবারের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় বিষয়টি টের পেয়ে ওই নারীর স্বামী বাধা দিলে এবং দুজন চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে সে সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র ও ছুরি দিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে অন্তঃসত্ত্বা নারী আঁখি ও তার স্বামী কামরুল হাসান শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন। আহত অবস্থায় তাদের আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পালানোর সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও হামলা চালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের শরীরে একাধিক গভীর ক্ষত রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে তারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খবর পেয়ে কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু আহমদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে মহেশখালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

মহেশখালী থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।